ছোটবেলার গল্প

১৯৫৪ সালের ঘটনা। কাকাবাবুর তখন বয়স হবে চৌদ্দ বছর মাত্র। কৃষ্ণনগরের গ্রামের বাড়িতে বয়োজ্যেষ্ঠ বিপ্লব মুখোপাধ্যায় কাকাবাবুকে ডেকে পাঠালেন। বললেন, “হ্যাঁ রে। তুই তো বেশ কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছিস। সকলকে চিন্তায় ফেলে বেশ কেরামতি দেখিয়েছিস। তুই যে সত্যিই পালাস আর পালাবার পরে ফিরে এসে যে কাহিনীগুলো বলিস, সেগুলো সত্যি না মিথ্যে জানবো কী করে”? কাকাবাবু বললেন কী প্রমান দিতে হবে বলুন। তিনি বললেন, “তোকে হাতে মাত্র ১০ টাকা দেব। এই টাকা নিয়ে বেরিয়ে তোকে দার্জিলিং যেতে হবে। একটা পোস্ট কার্ডে আমি আমার নিজের ঠিকানা লিখে দেব। সেইটা দার্জিলিং’এ গিয়ে কোনো পোস্ট অফিস থেকে পোস্ট করে তারপর বাড়ি ফিরবি। সে পোস্ট কার্ড যদি আমার কাছে আসে তো জানবো তোর এতদিনের ঘর থেকে পালানোর গল্প সব সত্যি”। কাকাবাবু পড়লেন বেশ ফ্যাসাদে। এভাবে প্রমান দেবার জন্য বাড়ি থেকে পালানো এ তো আগে কখনো ঘটেনি। তবে আগে কখনো দার্জিলিং যাওয়া হয়নি। এই সুযোগে যদি তা দেখা হয়ে যায় তা মন্দ কী। তখনকার দিনে বিনা পয়সায় বাসে ট্রামে যাওয়া সম্ভব না হলেও ট্রেনে যাওয়া যেত। কারণ চেকারের চোখ এড়িয়ে যাত্রা করা তেমন কিছু কঠিন ব্যাপার ছিল না।

               

                কাকাবাবু সেই পরিকল্পনা মতো শিয়ালদহ থেকে বিনা টিকিটে ট্রেনে যাত্রা করলেন। সোজা গিয়ে নামলেন শিলিগুড়ি। তারপর টয় ট্রেন। সেটাও বিনা পয়সায়। তখনকার দিনে টয় ট্রেন ছাড়তো শিলিগুড়ি থেকে। নিউ জলপাইগুড়ি বলে কোনো স্টেশন ছিল না। সেই কম বয়সে টয় ট্রেনের আকর্ষণ তাকে মুগ্ধ করেছিল। ট্রেনটা যেখানে প্যাঁচ মেরে মেরে ওপরে উঠছে সেখানে নেমে যাওয়া, আবার ঘুরে ট্রেনটা কাছাকাছি এলে দৌড়ে উঠে পড়া, এটা কম বয়সী ছেলেদের একটা বড় আকর্ষণ বরাবরই থাকে। ঘুম স্টেশনের পর ট্রেনটি নামতে শুরু করল। বিকেল চারটে নাগাদ দার্জিলিং স্টেশনে ট্রেন গিয়ে দাঁড়ালো। একটা চিন্তা তো মনে মনে ছিলই যে এরপর কী করবেন। কিন্তু সবচেয়ে  সমস্যা দেখা দিল ঠাণ্ডা। তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে দার্জিলিং’এ কতটা ঠাণ্ডা লাগতে পারে। বিপ্লবদাও কিছু বলে দেননি। শুধু ১০ টাকা ধরিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। কাকাবাবু বাচ্ছা ছেলে, অত জানার কথা নয়। বিপ্লব দার ওপর খুব রাগ হল। দুঃখও হল।

 

                পুরো স্টেশন ফাঁকা হয়ে গেল। যে যার গন্তব্যস্তলে ধীরে ধীরে চলে গেল। একা কাকাবাবু প্ল্যাটফর্মে বসে আছেন। সঙ্গে ভাগ্যিস একটা চাদর এনেছিলেন। একটি ঘরের গায়ে লেখা আছে মালঘর। সেখানে মালপত্তর রাখা আছে। ভেতরে একটা লোক বসে কী সব লেখালেখি করছে। এ সময় তিনজন বাঙালী ছেলে সেখানেই এসে হাজির। প্রথমে সাধারণ কথাবার্তা চলছিল। তারপর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হল। ওই ঠাণ্ডার মধ্যে বসে না থেকে কাকাবাবু গুটি গুটি গেলেন মজা দেখার জন্য। সেখানে টিকিট কাটা নিয়ে গণ্ডগোল হচ্ছে। চারজন ছেলে কলকাতা থেকে কলেজের স্টুডেন্ট কনসেশনে টিকিট কেটে দার্জিলিং ঘুরতে এসেছে। কনসেশনটা আসলে ছিল পাঁচজনের জন্য। সেটা নিয়ে চার বন্ধু এসেছে। দার্জিলিঙের কাউন্টারে এই ভদ্রলোক টিকিটের ব্যাপারে কথা বলছেন। তিনি বলছেন পাঁচজনের বরাদ্দ কনসেশনে চারজনকে টিকিট দেওয়া যাবে না। পাঁচটা টিকিটই কাটতে হবে। তারা বলছে তাহলে এলাম কী ভাবে? শিয়ালদহ থেকে তো চারটে টিকিটই দিল। কাউন্টারে বক্তব্য হচ্ছে, শিয়ালদহ কী করেছে জানার দরকার নেই। এখানে পাঁচের কমে টিকিট হবেনা। ছেলেরা বলছে তাহলে শালা কনসেশনের মানে কী হল। পাঁচটা টিকিটে চারজন ভাগাভাগি করলে সেই তো একই দাম পড়ল। যত সব মাথামোটার দল। বুদ্ধি মাথায় নেই, কোথায় থাকে কে জানে।

 

                কাকাবাবু চুপটি করে চাদর মুড়ি দিয়ে সব শুনছিলেন। তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে বলছিল ওই পাঁচজনের একজন যদি হতে পারা যায় তাহলে কেল্লা ফতে। বাড়ি ফেরার চিন্তা থাকবে না। হঠাৎ কাকাবাবু বলে উঠলেন, “আপনারা পাঁচটা টিকিটই নিয়ে নেন”। ওরা ভেবেছিল এটা কোনো স্থানীয় ছেলে হবে। বাংলা কথা শুনে তারা জিজ্ঞাসা করল, “অ্যাই ছোঁড়া, কে রে তুই”? কাকাবাবু বললেন আমার নাম শৈলেন। এখানে ঘুরতে এসেছি। ফিরতে তো হবেই। আপনাদের ওই পঞ্চম টিকিটটা আমি কেটে নেব।

 

  • ব্যাটা পুঁচকে ছেলে বলে কী রে। তোর সাথে আর কে কে আছে? নাকি তুই একা।

 

কাকাবাবু      –      (বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যে কথা বলতে শুরু করলেন) আমার সাথে চারজন আছে।

 

  • তারা কোথায়?

 

 কাকাবাবু     –      তারা বলল তুই এখানে বোস, আমরা হোটেল খুঁজে এসে তোকে নিয়ে যাব।

 

  • ( তাদের মধ্যে একজন বলল) ওরে ওরে। রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে। যারা তোর সাথে যারা এসেছিল তারা কারা।

 

কাকাবাবু      – আমাদের পাড়ার ছেলে।

 

-তুই থাকিস কোথায়। বাড়িতে কে কে আছে।

 

কাকাবাবু      – পিসিমার কাছে থাকি। কুমোরটুলিতে বাড়ি। পিসিমা কিছু টাকা পয়সা দিয়ে বলল, যা পাড়ার দাদাদের সাথে ঘুরে আয়।

 

-কত টাকা দিয়েছে রে।

 

কাকাবাবু      – ৩০০ টাকা। ওদের হাতেও কিছু দিয়েছে।

 

-তোর টাকাটা কী পুরোপুরি দিয়ে দিয়েছিস?

 

কাকাবাবু      – হ্যাঁ।

 

-তুই তো কলকাতার কলঙ্ক রে। এখনকার দিনে তোর মতো গাধা আর দুটো পাইনি। তোকে কলকাতার বাইরে বের করে দেওয়া উচিৎ। সে টাকা পাবার আশা ছেড়ে দে। ওরা তোকে আর নিতে আসবে না।

 

কাকাবাবু      – আসবে আসবে। ঠিক আসবে।

 

-চুপ একদম, গাধা কোথাকার আমাদের তো তুই আচ্ছা ঝামেলায় ফেললি। একে নিজেদের ঝামেলা নিয়ে মরছি। এরপরে তোকে ছেড়ে যাই বা কী করে।

 

                এই বলে তারা নিজেরা আলোচনা শুরু করল কাকাবাবু কে নিয়ে কী করা যায়। একজন বলল, “তোর গায়ে বিছানার চাদর কেন? সোয়েটার নেই”? কাকাবাবু না বলাতে তারা সিদ্ধান্ত নিল আপাতত সময় নষ্ট না করে একে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ডেরায় যাওয়া যাক। কাছেই তারা একটি হোটেল নিয়েছিল। দলের চার জনের মধ্যে তিনজন গিয়েছিল। একজন হোটেলে ঘুমোচ্ছিল।

 

                হোটেলে ঢুকে তাকে জাগিয়ে এরা বলল, “ওঠ ওঠ। দেখ কাকে ধরে এনেছি। পুরো রহস্যরোমাঞ্চ গোয়েন্দা গল্প হতে চলেছে একটা। এ ছেলে পিসিমার থেকে পয়সা নিয়ে ঘুরতে এসেছে। সঙ্গী সাথী যারা ছিল, এর টাকা হাতিয়ে নিয়ে গায়েব। বলেছে নাকি অপেক্ষা করতে। সে আর এসেছে”।

 

খাটে শোওয়া ছেলেটি জিজ্ঞসা করল, “তোর জামা প্যান্ট কী এনেছিস”?

 

কাকাবাবু      – এই একটা জামা আর হাফ প্যান্ট।

 

                -তুই তো ঠাণ্ডায় মরবি। দাঁড়া দাঁড়া বলে নিজেদের একটা প্যান্ট আর একটা সোয়েটার দিল। সে সোয়েটারের কাঁধটা কাকাবাবুর কনুই এর কাছে। আর প্যান্টটা অর্ধেকটা গোটাতে হল। ওরা বলল এসে পড়েছিস যখন আর চিন্তা নেই। এই বলে কৌটো থেকে মুড়ি বিস্কুট খেতে দিল। বলল আমারা যা খাব তুই ও তাই খাবি।

 

                ওরা আলোচনায় বসল কী করা যায়। একজন বলল শালারা যাবে কোথায়। ম্যালে ওদের আসতেই হবে। চল, কাল আমারা সারাদিন ম্যালে থাকব। কাকাবাবুকে বলল- “কী রে চিনতে পারবি তো সেই শাগরেদদের”? কাকাবাবু বলল- পারব না মানে? দিব্যি পারব। ওরা বলাবলি করছে – কাল একটা গোয়েন্দা কাহিনী হতে চলেছে। দার্জিলিং আসা সার্থক আমাদের। যতই হোক একটা গোবেচারা বাচ্ছার প্রাণ তো বাঁচালাম। এবার টাকাটা উদ্ধার করতে পারলেই কেল্লা ফতে। একবার ধরি শালাদের, তারপর সোজা পুলিসের হাতে। আরেকজন বলল – না না, ওসব পুলিস পরে হবে। হাতে থুতু ফেলে শালাদের মাথায় গুছিয়ে চাঁটাব। তারপর বাকী কথা। এতবড় সাহস যে বাচ্ছার টাকা ঝাড়া?

 

একজন বলল- আচ্ছা কাল যদি ওরা ম্যালে না যায়?

 

-আরে একবার না একবার ঠিক আসবে। নাহলে পরের দিন টাইগার হিল যাবো। ওখানে পাব।

 

একজন বলল- এ ভাবে কদিন খুঁজবি। আমাদের অত পয়সা কোথায়?

 

-ধৈর্য ধর। একবার পেলে বুঝতে পারছিস? অনেক টাকা পাওয়া যাবে। সেখান থেকে খরচা করা যাবে।

 

                পরদিন ওরা চারজন আর কাকাবাবু চললেন ম্যালে। সারাদিন তীর্থের কাকের মতো পাঁচজন বসে রইল। আর কাকাবাবু অভিনয় করে গেলেন। একমাত্র তিনিই জানেন যে সকলেরই পন্ডশ্রম হচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা এতটাই গভীরে চলে গেছে যে তিনি সত্যি কথাটা আর বলতে পারছেন না।

 

                বাড়ি ফিরে এসে পরদিন সকালে তারা গেল ম্যালে। সেখানেও কারোর দেখা মিলল না দেখে তারা সিদ্ধান্ত নিল বাড়ি ফিরে আসবে। কাকাবাবু কে তারা পিসিমার হাতে তুলে দেবে।

 

                যে পিসিমার কোনো অস্তিত্বই নেই তার কাছে যাওয়াটা কী করে আটকানো যাবে সেটা ভেবে কাকাবাবুর হাড় হিম হয়ে গেল। কিন্তু কোনো বুদ্ধি মাথায় আসছে না। সত্যি কথা বললে বেদম মার, না বললেও সত্যি ধরা পড়তে বাধ্য। আরো বেদম মার।

 

                ট্রেনে সবাই খুব মজা করতে করতে আসছে। কাকাবাবুর পরনে উদ্ভট পোষাক দেখে যাত্রীরা হাসাহাসি করছে। যে দেখছে সেই জিজ্ঞাসা করছে এ বাচ্ছাটা কে। তখন এই পাঁচজন জমিয়ে তাদের গোয়েন্দা কাহিনী বলছে। এই করতে করতে সারা ট্রেনে রটে গেল কাকাবাবুর কথা। কথায় কথায় গল্প বিকৃত হয়ে গেল। সবাই বলতে লাগল যে একটা ছেলে ধরা পড়েছে বাড়ি থেকে পালাবার সময়। ওই পাঁচজনের দল তাকে উদ্ধার করে নিয়ে পিসিমার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ব্যাপারটার কেন্দ্র বিন্দুতে দাঁড়িয়ে কাকাবাবুর বেশ মজা লাগছিল। কিন্তু যেই না পিসিমার কথা উঠছে, আতঙ্কে তার বুক ছ্যাঁত করে উঠছে।

 

                কাকাবাবু যাবেন কৃষ্ণনগর। একটা বুদ্ধি মাথায় এল। তিনি বললেন পিসিমা বাড়ি নেই।

 

                -তবে কোথায় গেছে?

 

কাকাবাবু      – কৃষ্ণনগর

 

                -সে আবার কবে গেলেন।

 

কাকাবাবু      – ওই যে আমাকে পাঠিয়ে দিয়ে নিজেও চলে গেল। আমি ওখানেই যাবো।

 

মনের মধ্যে একটা ভয় কাজ করতে লাগল। যে ওরা আবার না বলে বসে, চল তোকে কৃষ্ণনগর দিয়ে আসি। কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল।  

 

তারা বলল   – যাঃ! বলিস কি রে। আমাদের পক্ষে আর কৃষ্ণনগর যাওয়া সম্ভব নয়। তোকে একা একাই যেতে হবে। পারবি তো?

               

কাকাবাবু      – (একটু ন্যাকা সেজে) হ্যাঁ হ্যাঁ পারব। বিলক্ষণ পারব।

 

ঠিক হল এ যাত্রা বাড়ি ফিরে গেলেও বদমাইশদের ছাড়া হবে না। তারা বলল, “তুই যেদিন কলকাতায় পিসিমার বাড়ি ফিরবি, আমাদের সাথে দেখা করবি। আমাদের বাড়ি শোভাবাজারে। কুমোরটুলি থেকে একটুখানি। ও শালারা পার পাবে না। আমাদের চেনে না। হাতে থুতু ফেলে তৈরী হব। পটাপট চাঁটাবো সবকটাকে। সেদিনই নাহয় পিসিমার সাথে দেখা হবে।

 

                এই বলে তারা শিয়ালদহে নেমে চলে গেল। কাকাবাবু কৃষ্ণনগরের ট্রেন ধরলেন। বিপ্লবদাকে সব কীর্তিকলাপ বলাতে তিনি তো হাঁ। বললেন, “তুই করেছিস টা কী? ওরে বাবা রে। তোর সাথে আমি আর জীবনে চ্যালেঞ্জ লড়ব না। তোকে নিয়ে তো ভয়ানক চিন্তা হয়ে গেছিল। পাঠাবার সময় অত ভাবিনি। তুই যে ফট করে চলে যাবি তাও ভাবিনি। ফিরে এসে আমাকে উদ্ধার করেছিস”। কাকাবাবু বললেন তোমার টাকা তো আমার খরচাই হয়নি। বিপ্লবদা বললেন অনেক হয়েছে। ও টাকা ফেরত নেবার জন্য আমি তোকে দিইনি। ওটা তোর।

 

                এই পুরো ঘটনা কাকাবাবু নিজেই আমাকে গল্প করেছেন। এরকম বহু গল্প তিনি সময় পেলে আমাকে শোনাতেন। অন্য কোনো দিন সে সব আবার লিখব। তবে ছোট বয়সের এরকম অপকর্ম শুনে অনেকে কাকাবাবুকে তিরস্কার করেছে। তারা বলেছে, “এ সব কুকীর্তি নিজে মুখে বলতে আপনার লজ্জা করে না”? কাকাবাবুর সহজ উত্তর – “লজ্জা কেন করবে বল। ভালো মন্দ নিয়েই তো জীবন। শুধু ভালোটা বলব আর মন্দগুলো চেপে যাব সে তো হয় না”। তার বক্তব্য হচ্ছে সেই পরিস্থিতিতে যদি তিনি মিথ্যে না বলতেন তাহলে আর বাঁচার আশা থাকত না। কারো ক্ষতি করার জন্য যে মিথ্যা বলেছেন তা নয়। ঘটনাক্রম যেদিকে গড়াল তাতে পরে ভুল স্বীকার করলে ছাল চামড়া গুটিয়ে যেত। তবে ফলস্বরুপ যা ঘটেছিলো তা হল, পরবর্তী প্রায় দশ বছর তিনি আর শোভাবাজার চত্বরে যাননি।    

Similar Posts

  • বিদ্যুৎ মহারাজ

    বিদ্যুৎ মহারাজ বিদ্যুৎ মহারাজের সন্ন্যাসে রূপান্তরের গল্প   চলার পথে পড়ে থাকা সম্পদ যা কিছু চোখে পড়ে, তা চাক্ষুষ করে আমার জীবন সার্থক হয়। কোন পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই এসব সম্পদ আমার কাছে ধরা দেয়। যেমন বনগাঁ ভারত সেবাশ্রম সংঘের বিদ্যুৎ মহারাজ। সাধারণ একটি পরিবারের সন্তান হয়ে কিভাবে তিনি ধীরে ধীরে একটি সংঘের মহারাজ হয়ে উঠলেন, তাই…

  • মিলন

    মিলন আজ সম্পূর্ণ লকডাউন। সে দিনও তাই ছিল।গোড়া থেকেই বলি। ১৯৫৭ সালের ১লা এপ্রিল। এপ্রিল ফুলের দিন তার জন্ম। আবার সেই দিনই নয়া পয়সা (খুচরো এক-দুই-তিন-পাঁচ এইরকম পয়সাকে নয়া পয়সা বলা হত) চালু হয়েছিল। তাই তার ‘ন’-কাকা তাকে নয়া পয়সা বলেই ডাকতেন। এ’হেন মিলন প্রথম কথা শিখেছিল একটু দেরিতে। তার প্রথম মুখনিঃসৃত শব্দ ছিল “অ্যাগু…

  • সিন্ধু তুমি কার

    সিন্ধু তুমি কার ছোটবেলা থেকে এতবার শুনে আসছি গানটা, সময় পেলেই গুনগুনিয়ে উঠি – “গঙ্গা সিন্ধু নর্মদা, কাবেরী যমুনা ওই….”। সব নদীগুলো ইচ্ছে হলেই দেখতে পারি শুধু ‘সিন্ধু’ ছাড়া। সে নাকি হাতের নাগালে নয়। যে দূর থেকে হাতছানি দেয়, তার প্রতি বোধহয় টান বেশি জন্মায়। তাই মনে মনে তাকে বলতাম, যখন তুমি আস্ত একটা নদী…

  • একটি চুরি যাওয়া সাইকেল

    একটি চুরি যাওয়া সাইকেল পর্ব – ৪ (শেষ পর্ব) এদিকে আমার হাল কে দেখে তার ঠিক নেই। এসব করতে করতেই বেজে গেল বিকেল ৪’টে। কোর্ট নাকি ৪’টে অবধিই চলে। উকিলবাবু আমার সব কাগজপত্র বের করে চললেন জজ্‌ সাহেবের কাছে। নিয়মটা আগেই বলেছি, কোর্ট কিছু একটা অর্ডার দেবে। সেটা নিয়ে থানায় আসতে হবে। সেখানে থানায় সই…

  • একটি চুরি যাওয়া সাইকেল

    একটি চুরি যাওয়া সাইকেল পর্ব – ৩ এখানে SSB এর টিমটা সকাল ৬’টায় চলে আসে। সন্ধ্যে ৬’টায় চলে যায়। সকাল বেলা এসেই তারা কলকল করতে শুরু করে। ফলে ঘুম ভেঙ্গে গেল। এরা অসমের ব্যাটেলিয়ান। এখানে এসেছে অমরনাথ যাত্রা চলাকালীন যাত্রী সুরক্ষার জন্য। তাদের দশজন পুলিশ ক্যাম্পেই থাকে। জায়গা নেই বলে বাকিরা নিজেদের ক্যাম্পে ফিরে যায়।…

  • জাঁস্কারের বন্দীদশা

    জাঁস্কারের বন্দীদশা জাঁস্কার হল লাদাখের প্রাচীনতম অঞ্চল, দুর্গমও বটে। তাই লাদাখের অন্যান্য জায়গার থেকে জাঁস্কার কিছুটা বিচ্ছিন্ন। যেখান দিয়েই যাওয়া হোক না কেন, এখানে যেতে গেলে কোনো না কোনো গিরিপথ (Pass) অতিক্রম করতেই হবে। লাদাখি ভাষায় গিরিপথকে বলা হয় ‘লা’ (La)। যদি কার্গিল থেকে জাঁস্কার যেতে হয় তবে পেরোতে হবে ‘পেনজি লা’ (Penzi La)। যদি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *