রেলপথের মাধুকরী
রেলপথে লোহার দুটি লাইনের ওপর ইঞ্জিনের কেবিনে বসে তাঁদের জীবনের অর্ধেকের বেশি দিন কেটে যায়। চাকুরি জীবন শেষে দেখা যায় কটা দিন আর বাকি। তাদের সুখ, দুঃখ, মনন ও মানসিকতা নিয়ে আমার নতুন বই “রেলপথের মাধুকরী” প্রকাশিত হতে চলেছে।
রেলপথে লোহার দুটি লাইনের ওপর ইঞ্জিনের কেবিনে বসে তাঁদের জীবনের অর্ধেকের বেশি দিন কেটে যায়। চাকুরি জীবন শেষে দেখা যায় কটা দিন আর বাকি। তাদের সুখ, দুঃখ, মনন ও মানসিকতা নিয়ে আমার নতুন বই “রেলপথের মাধুকরী” প্রকাশিত হতে চলেছে।
১৯৫৪ সালের ঘটনা। কাকাবাবুর তখন বয়স হবে চৌদ্দ বছর মাত্র। কৃষ্ণনগরের গ্রামের বাড়িতে বয়োজ্যেষ্ঠ বিপ্লব মুখোপাধ্যায় কাকাবাবুকে ডেকে পাঠালেন। বললেন, “হ্যাঁ রে। তুই তো বেশ কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছিস। সকলকে চিন্তায় ফেলে বেশ কেরামতি দেখিয়েছিস। তুই যে সত্যিই পালাস আর পালাবার পরে ফিরে এসে যে কাহিনীগুলো বলিস, সেগুলো সত্যি না মিথ্যে জানবো কী করে”?…
BRO কথাটির পুরো অর্থ হল Border Roads Organisation। এই নামটার সাথে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৯৪ সালে যখন প্রথম চাকরী নিয়ে নেপালে যাই। নেপালের বিরাটনগরে দেখলাম ভারতের তৈরী রাস্তা উত্তরদিকে চলে গেছে যা তৈরী করে দিয়েছে BRO। তখন পঃ বঙ্গ তথা ভারতের রাস্তা ঘাট সম্পর্কে আমাদের যা ধ্যান ধারণা ছিল তা মোটে ভালো নয়। সেখানে বিরাটনগরের…
স্হানীয় মানুষ একে এককথায় হাড়োয়া মাজার বলেই চেনে। এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে এটির। ২৯শে ফাল্গুন এখানে বার্ষিক উৎসব হয়। স্হানীয় হিন্দু ঘোষ পরিবারের সদস্যরা প্রথম এখানে এসে দুধ দিয়ে মাজার ধুয়ে পুজো দেন। তারপর মুসলমানদের পুজো শুরু হয়। যদিও হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকলের কাছে এটি পবিত্র ধর্মস্হান। দুনিয়ায় এতকিছু ঘটে যাওয়া সত্ত্বেও এখানে আজ পর্যন্ত…
জোজিলার কালো রাত সে একরাত বটে। রোদ ঝলমলে সকালে টেন্টের দরজা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেখি চারিধারের পাহাড়ের মাথায় সোনালী সূর্যের ছটা। সোনামার্গের যাত্রীনিবাসে মনোরম ঘাসের ওপর টেন্ট খাটিয়েছিলাম। সাইকেল চালিয়ে চলেছি লাদাখ। সোনামার্গের পরে বড় শহর হল দ্রাস। পথে আছে ‘জোজিলা পাস’ (৩৫২৮ মি. উঁচু)। এর আগে পাসের প্রকৃতি সম্পর্কে আমার খুব বেশি ধারণা ছিল…
কাটোয়া-লাডপুর-চন্ডিদাস-বোলপুর কাটোয়া স্টেশনের পরে যে রাস্তাটা “কেতুগ্রামের” দিকেগেছে, সেটির দুপাশে শুধুই ধানক্ষেত। এখানের সবচেয়ে বড় নদী ‘অজয় নদ’ একটু দূরেই গঙ্গারসাথে মিশেছে। কেতুগ্রামে “গীতাভবন” বলে একটিআশ্রম আছে আমার পূর্ব পরিচিত। দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে সেখানে দেখি নাচ গানের মহড়া চলছে।তাদের একনিষ্ঠ অনুশীলনে আমি মুগ্ধ হয়ে গেলাম।সেখানে পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ঈশানী নদী। সেখানে বাচ্চাদের কতই না কেরামতি।…
মদনের প্রেম বাঙালীর কাছে ‘মদন’ নামটার মানে যাই হোক না কেন, আমি যার কথা বলছি সে হল হিমাচলের প্রেমিক মদন। মদনের সাথে আমার প্রেমের কাহিনী বলার জন্যই আমার কলম ধরা। আসলে প্রেমটা আমার সাথে মদনের নয়। মদনের প্রেমিক সত্ত্বার সাথে। মদন একটা ছেলে। তার সাথে আর কী প্রেম করব। তবে মনস্তত্ত্ববিদরা বলেন, প্রেমের সাথে ছেলে…
ব্যাঙে প্রেম করে যেই জন ঘরদোর অপরিস্কার থাকলে ঘরে অনেক পোকামাকড় জোটে। আরশোলা তো থাকবেই। ইদুরও আসতে পারে। পিঁপড়ের তো কথাই নেই। সুখী গৃহকোণের এগুলো অঙ্গ হতে পারে না। তাই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়। পিঁপড়ে তাও কিছুটা সহ্য করা যায়। কারণ সহজেই তাকে দমন করা সম্ভব। আরশোলাকে নিয়েএকটা সুবিধা হল, সেটি চট করে মানুষের…
মিলন আজ সম্পূর্ণ লকডাউন। সে দিনও তাই ছিল।গোড়া থেকেই বলি। ১৯৫৭ সালের ১লা এপ্রিল। এপ্রিল ফুলের দিন তার জন্ম। আবার সেই দিনই নয়া পয়সা (খুচরো এক-দুই-তিন-পাঁচ এইরকম পয়সাকে নয়া পয়সা বলা হত) চালু হয়েছিল। তাই তার ‘ন’-কাকা তাকে নয়া পয়সা বলেই ডাকতেন। এ’হেন মিলন প্রথম কথা শিখেছিল একটু দেরিতে। তার প্রথম মুখনিঃসৃত শব্দ ছিল “অ্যাগু…
কাকাবাবুর সাথে পরিচয় পর্ব যোগাচার্য্য শ্রীযুক্ত শৈলেন চক্রবর্তী। আমি তাঁকে কাকাবাবু বলেই ডাকি। প্রথম প্রথম শৈলেনবাবু বলেই ডাকতাম। বছরখানেক পর একটা মৃদু ধমক খেলাম- ‘’আচ্ছা এটা কী জিনিস সন্দীপ ? শৈলেনবাবু শৈলেনবাবু করে ডাকো কেন আমাকে? আমি তোমার বাবার বয়সী। কেউ আমাকে দাদু বলে , কেউ বলে বাবা,কেউ বলে কাকা। তোমার থেকে এটা আশা করি…